Gangani The Grand canyon of West Bengal

*গনগনিতে গ্রান্ড ক্যানিয়ন*

Full video link : https://youtu.be/IFcWrnyQ2kg 
কোনো এক শীতের রাতে যদি আপনাকে লেপ কম্বল পরিত্যাগ করতে হয় আর সূর্য ওঠার আগেই ছুটতে হয় স্টেশনে ট্রেন ধরতে তাহলে অবশ্যই আপনি নিজেকে দুনিয়ার সবচেয়ে দূর্ভাগা মনে করবেন এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু যদি এই কষ্টের বিনিময়ে আপনি পৌছতে পারেন চাঁদের পাহাড়ে তাও আবার মাত্র 2-3 ঘন্টার মধ্যে তাহলে? 
চাঁদের পাহাড় ব্যাপারটা আমাদের কল্পনায় আছে সেই ছোট্টবেলা থেকে তাই সেই কল্পনার সাথে বাস্তবের কোনো জায়গার অল্প সাদৃশ্য পেলেই আমরা সেটাকেই আমাদের চাঁদের পাহাড়ের আখ্যা দিয়ে থাকি। এক্ষেত্রেও তার কিছু ব্যতিক্রম হয়নি। 
সকালে আড়মোড়া ভাঙতে ভাঙতে হাওড়ার সাঁতরাগাছি স্টেশন থেকে সকাল 6.25 এর রূপসী বাংলা এক্সপ্রেস ধরে আমরা 9.30 টার মধ্যেই পৌঁছে গেলাম পূর্ব মেদিনীপুরের গরবেতা স্টেশনে। সেখান থেকে টোটো করে মাত্র 15 মিনিটের মধ্যেই পৌঁছে গেলাম গনগনিতে যা পশ্চিমবঙ্গের সবথেকে বড় ক্যানিয়নের জন্য বিখ্যাত। বহু বছর ধরে শীলাবতী নদীর ক্ষয়কার্যের ফলে এক অপরূপ সুন্দর ভূমিরূপ তৈরী হয়েছে। লাল মাটির সেই ভূমিরূপ দেখতে সত্যিই আমার কল্পনার সেই চাঁদের পাহাড়ের মতোনই। প্রকৃতির এই অদ্ভূত এক সৃষ্টিকে সত্যিই নিজের চোখে না দেখলে বিশ্বাস করা কঠিন।
গনগনির মূল ট্যুরিস্ট স্পটটিও বর্তমানে তার রূপ অনেকটাই বদলে ফেলেছে।কিছু বছর আগে পর্যন্ত যা শুনেছি এখানে দূরদূরান্ত পর্যন্ত কোনো খাবারের দোকান পাওয়াই যেত না কিন্তু এখন সেখানে রমরমিয়ে চলছে খাবারের বিভিন্ন ছোট বড় স্টল। শুধু তাই নয়, car parking area, পিকনিক স্পট বুকিং সবকিছুর ব্যবস্থাই এখানে এখন গড়ে উঠেছে।
breakfast সেরে আমরা সিঁড়ি দিয়ে নেমে এলাম গিরিখাতের দিকে। এখানে বলে রাখি সিঁড়িগুলো কিন্তু যথেস্ট বেশী খাড়া আর সিঁড়ির শেষে রয়েছে এক এবরোখেবরো ঢালু পথ যেখানে একটু অসাবধানে পা পড়লেই উল্টে নীচে পড়ে যাবার আশঙ্কা রয়েছে। তাই যথেস্ট সাবধানতার সাথে নীচে নামতে হবে। যতই এগোচ্ছি ততই আশ্চর্য হচ্ছি, এ যেন এক অন্য পৃথিবী। এখানকার মাটির রং, টেক্সচার এতটাই সুন্দর যে দিনের বিভিন্ন সময়ে এখানে এলে এই ক্যানিয়নের বিভিন্ন রূপ দেখা যাবে। এই যেমন একদম ভোরে যখন সবে সূর্য উঠছে তখন এক রূপ আবার দুপূরের কড়া সূর্যের আলোয় তার অন্য রূপ, আর যারা পড়ন্ত বিকেলবেলায় সূর্যাস্তের সময়ে এখানে আসেন তারা এই ক্যানিয়নের এক অপরূপ মায়াবী রূপ দেখতে পান। শুধু তাই নয়, বিশেষ কিছু ঋতুতে এই ক্যানিয়নের রূপ সত্যিই দেখার মতো।এই যেমন শরৎকালে যখন শীলাবতী নদীর পাশে কাশফুল ভরে ওঠে তখন সেই ফুল যেন এই ক্যানিয়নের শোভা দ্বিগুন বাড়িয়ে দেয়।
প্রায় অনেকটা বিস্তৃত এলাকা জুড়ে এটি অবস্থিত।এর গভীরতা প্রায় 70-80 ফিট মতো। কিছু কিছু জায়গায় এই ভূমিরূপটি একটি প্রকৃতসৃষ্ট গুহার আকৃতি ধারন করেছে। বাইরের রোদের তাপের মধ্যে থেকে এই গুহাগুলির মধ্যে ঢুকলে তাপমাত্রার পার্থক্যটা বেশ ভালোভাবেই বোঝা যায়। পুরো ক্যানিয়নের আনাচে কানাচে ঘুরতে সময় লেগে যাবে প্রায় 2.30-3.00 ঘন্টার মতো।এরপরেও যদি হাতে সময় থাকে ও মনে ইচ্ছা থাকে তবে দেখে নিতে পারেন সর্বমঙ্গলা মন্দির, রাধাবল্লভ মন্দির।
তবে আমরা আর ওদিকে যাইনি শুধু এই ক্যানিয়নের রূপেই এতটা মুগ্ধ হয়ে গিয়েছিলাম যে অন্য কোথাও যাবার কথা মনেও আসেনি।
এই ক্যানিয়নের মধ্যে দিয়ে চলা কিন্তু কখনো সখনো খুবই বিপদসঙ্কুল। কিছু কিছু জায়গা এতটাই খাড়াই আর এখানকার মাটি এতটাই আলগা যে পায়ে গ্রিপ না পেয়ে পড়ে যাবার আশঙ্কা থেকে যায়। তাই খুবই সাবধানে এই রাস্তায় চলাফেরা করা উচিত। ঘুরতে ঘুরতে পড়ল একটি সুড়ঙ্গপথ,একটি সংকির্ণ রাস্তা আর দুপাশে ঘন আগাছা।সেই পথ ধরে চলতে চলতে আমরা পৌছলাম শীলাবতী নদীর প্রান্তরে। এই নদীর রূপ এতটাই সুন্দর,শান্ত ও স্নিগ্ধ যে চুপচাপ এই নদীর পাড়ে বসে এই প্রকৃতির শোভা দেখতে দেখতে কখন যে সময় পেড়িয়ে যাবে বোঝাই যাবে না। 
হুঁশ ফিরল পেটের ভিতর ইঁদুরের নাচানাচির চোটে। মনে করিয়ে দিল যে মধ্যাহ্নাহারের সময় হয়েছে তাই এবার কিছু খেতেই হবে। অতএব এবার সিঁড়ি দিয়ে উঠে দোকানগুলিতে খোঁজ করতে হবে। ভাগ্যক্রমে এক দোকানদার আমাদের জন্য মাংসভাত রান্না করে দেবেন বললেন তাও আবার মাত্র 100 টাকার বিনিময়ে। আমরা ভাবতেই পারিনি যে এইরকম জায়গায় আমরা পেটপুরে lunch ও করতে পারব। এই দোকানদার দাদাকে আগে থেকে অর্ডার দিয়ে রাখলে ইনি এখানে খাবারদাবারের সমস্তরকম ব্যাবস্থা করে রাখবেন। এরপর কিছুক্ষন ব্যাডমিন্টন খেলে সময় কাটিয়ে আমরা ফেরার ট্রেন ধরার পথ ধরলাম। 
গনগনিতে আমরা এত সুন্দর দৃশ্য দেখে মুগ্ধ হয়েছি ঠিকই কিন্তু একটা খুব বাজে জিনিস লক্ষ্য করলাম যা আমি এখানে বলতে বাধ্য হচ্ছি তা হল যত্রতত্র নোংরা ফেলার সমস্যা। এই শীতের সময় প্রচুর মানুষ এখানে পিকনিক করতে আসছেন আর যেখানে পারছেন নোংরা ফেলে ছড়িয়ে যাচ্ছেন।সে শীলাবতী নদীর জলেই হোক আর ক্যানিয়নের ভিতর কোনো খাঁজে।চারিদিকে কোথাও ডাস্টবিনের ছবিও দেখতে পেলাম না। পৌরসভার তরফ থেকে এসব পরিষ্কার করার কোনোরকম ভুমিকাই নেওয়া হয়না ফলে আগামীকালে আপনারা যখন গনগনিতে ক্যনিয়ন দেখতে আসবেন তখন ভেবেই নেবেন যে সেখানে আপনাকে অন্যের ফেলে যাওয়া নোংরাই আগে স্বাগত জানাবে।

আমাদের এই ট্যুরের ভিডিও রূপান্তরণ দেখতে চাইলে নীচের লিঙ্কে ক্লিক করতে হবে,আর ভালো লাগলে অবশ্যই মনে করে ভিডিওটি লাইক ও চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব ও করতে হবে কিন্তু।
https://youtu.be/IFcWrnyQ2kg 

Important Phone numbers :
Toto booking (Rintu) : 9609570681
Lunch booking (Tapas Pandit) : 7047000733
For night stay (Sonajhuri Guest house) : 9547514030

Comments