"Arunachal Pradesh" - The Land Of Rising Sun (Ep-1)
অরুনাচল প্রদেশ - উদীয়মান সূর্যের দেশ
Youtube video link : https://youtu.be/vI5yIxkgxvQ
ভ্রমণপিপাসু পরিবারে জন্মানোর সুবাদে ছোট থেকে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ঘুরে বেড়ানোর সৌভাগ্য আমার হয়েছে। কিন্তু দেশের উত্তর-পূর্ব প্রান্তটি পুরোটাই প্রায় অজানা অদেখাই রয়ে গেছে। হয়ত তার কারণ জায়গাটি সম্বন্ধে এখনও অনেকটাই আমাদের অজানা, তাছাড়া শুনেছি জায়গাটি খুবই খরচসাপেক্ষ তাই দেশের বাকি জায়গাগুলোর মতো এখানে যাবার ইচ্ছা কখনও সেভাবে হয়নি।
এই বছরের (2019) প্রথমদিকেই বাবার কিছু বন্ধুরা মিলে অরুণাচল যাবার পরিকল্পনা সাজাচ্ছিলেন। তারা বাবা সহ তার পরিবার অর্থাং আমি আর মা কেও তাদের দলে যোগ করলেন। যেহেতু তখনও অরুণাচল সম্বন্ধে কোনো ধারনাই আমার ছিলনা তাই মন থেকে পুরোপুরি সায় দিতে পারছিলাম না। তবে পরবর্তীকালে internetর দৌলতে এবং বাবার এক বন্ধুর অরুণাচলের উপর লেখা বই পড়ে সেই জায়গাটি দেখার ইচ্ছা হতে লাগল। আস্তে আস্তে আমাদের দলের জনসংখ্যা বেড়ে দাঁড়ালো আট জন, শুধু তাই নয় আমাদের দলের আরও একটি বিশেষত্ব হল দলের প্রায় সবাই 60 র কোটা পার করে ফেলেছেন। সবার থেকে বড় যিনি তার বয়স 73 বছর আর সর্বকনিষ্ঠা যিনি মানে আমি এখনও 25 ও পেড়োইনি। দলের সদস্যদের বেড়াতে যাবার ইচ্ছা যেরকম আমাকে inspire করেছিল তেমনি তাদের শারীরিক অবস্থার ব্যাপারেও খুবই চিন্তা হচ্ছিল।
তা ঠিক চারমাস আগে নির্দিষ্ট দিনে ট্রেনের টিকিট এবং তারপর হোটেল,গাড়ি বুকিং পর্ব মিটিয়ে নেওয়া হল। আর বেরোনোর ঠিক একমাস আগে করতে হল 'inner line permit' বা অরুণাচলে ঢোকার ছারপত্রের জন্য দরখাস্ত। সেখানে দলের প্রত্যেক সদস্যের identity proof,photographর scan copy জমা করতে হয়। এটি online বা offline দুভাবেই করা যায়। তবে আমার মনে হয় online প্রক্রিয়াটাই বেশি সুবিধাজনক।মাথাপিছু 100 টাকা করে জমা করে 2-3 দিনের মধ্যেই আমাদের দরখাস্ত accept হয়ে গেল।
দেখতে দেখতে এসে গেল পূজোর ছুটি আর সঙ্গে আমাদের যাবার দিন। দুর্গাপঞ্চমীর দিন পাড়ার প্রতিমা দর্শণ করে আমরা বেড়িয়ে পড়লাম সেই অজানা অচেনা জায়গার উদ্দেশ্যে। হাওড়া স্টেশনের সেই গুরুত্বপূর্ণ স্থানে (বড় ঘড়ির তলায়)সবাই একে একে এলেন। তারপর দুপুর 3.50 p.m এর সরাইঘাট এক্সপ্রেসে চরে আমরা রওনা দিলাম গৌহাটির উদ্দেশ্যে। সেই দিনটি গল্প করতে করতে ট্রেনেই কেটে গেল।পরের দিন সকাল 10.00 a.m এ একদম RIGHT TIMEএ ট্রেনের চালক আমাদের গৌহাটি পৌঁছে দিল। Indian Railways এর এত উন্নতি নিজের চোখে না দেখলে বিশ্বাস করা খুব কঠিন। তারপর স্টেশন চত্বর থেকে বেড়িয়ে ডান দিকে কিছুটা গিয়ে busর ticket counter দেখতে পেলাম। মাথাপিছু 220 rs এর টিকিট কেটে অবশেষে bus এ নির্দিষ্ট স্থানে বসে চারপাশের দৃশ্য দেখতে দেখতে আমরা চললাম তেজপুরের উদ্দেশ্যে। google map/কিছু বই পড়ে জেনেছিলাম সময় লাগা উচিত 4-5 ঘন্টা। কিন্তু reality কিছু আলাদাই দেখলাম। সকাল 11টায় বাস ছেড়ে, মাঝে শুধু একটা ধাবায় 15 মিনিটের জন্য থেমে, বাসটি তেজপুরে পৌছল প্রায় 5.30-6.00 p.m এ। এতক্ষন journey করে তখন সবাই খুব ক্লান্ত। তাই তাড়াতাড়ি করে একটি হোটেলের বন্দোবস্ত করে আমরা সেদিনের সমাপ্তি করলাম। রাতে dinner এর জন্য বেড়িয়ে চারপাশটা একটু ঘুরে দেখলাম রাতের অন্ধকারে। দেখলাম তেজপুরের একটি দুর্গাপূজা মন্ডপ,বেশি কিছু আতিশয্যা ছাড়াই খুবই সাধারণ এক মায়ের মূর্তি। আর একটা খুবই উল্লেখযোগ্য জিনিস দেখেছি যেটা বলা দরকার সেটা হল কলকাতার প্রাচীনকালে আমরা যেমন দেখতাম যে পঞ্চমী বা ষষ্ঠীতে ঠাকুর মন্ডপে আসতেন এখানেও এখনও সেই প্রথাই রয়েছে দেখে খুব ভালো লাগল। বাসে আসতে আসতে অনেক ঠাকুর দেখলাম যা নিজেদের মন্ডপের উদ্দেশ্যে যাচ্ছে।
তেজপুরে দেখার বলতে সেরকম কিছুই নেই। আমাদের মতো বাকিরাও এখানে এক রাত থেকে পরের দিন অরুণাচলের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেন। এখানে আসলে রাস্তার দৈর্ঘ্য এতটাই বেশি যে মাঝে এই জায়গা গুলোয় থাকতেই হয়।
আজকের পর্ব এখানেই শেষ। পরের পর্বে আমরা যাব ভালুকপং হয়ে দিরাঙের উদ্দেশ্যে।
আমাদের যাত্রার একটি video রূপান্তরণ ইতিমধ্যে Youtube এ প্রকাশ করে ফেলেছি। ইচ্ছে হলে দেখতে পারেন নীচের লিঙ্কে গিয়ে। আর কেমন লাগল সেটা অবশ্যই জানাবেন।ধন্যবাদ 🙏 ভুল ত্রুটি মার্জনীয়।
Youtube video link : https://youtu.be/vI5yIxkgxvQ
#To_be_continued ..............









Comments
Post a Comment