Mother's Wax Museum
*তারাদের আসর*
youtube video link : https://youtu.be/9WzpuB_STm8
পৃথিবীর বর্তমান পরিস্থিতির দরুন আজ আমরা সকলে গৃহবন্দি। সবসময়েই একটা অজানা আশঙ্কা আমাদের মনকে গ্রাস করে রেখেছে। এরকম অবস্থায় নি
জেদের মন ও শরীরকে ভালো রাখার দায়িত্ব আমাদের নিজেদেরকেই নিতে হবে। তাই কিছুদিন আগের একটি ভ্রমণের কাহিনী গল্প ও ভিডিওর আকারে পরিবেশন করলাম। আশা করি সকলের ভালো লাগবে।
শীতের এক সপ্তাহান্তে টুক করে ঘুরে এসেছিলাম কলকাতার নিউটাউনের মাদার্স ওয়াক্স মিউসিয়ামে। সিকিউরিটি গার্ডের কাছে ব্যাগ জমা রেখে লিফ্টে করে পৌঁছলাম দুতলায়। সেখানে 250/- টাকার টিকিট কেটে ঢুকে পড়লাম মিউজিয়ামের ভিতর। ঢুকেই দর্শন পেলাম আমাদের জাতীর জনক গান্ধিজীর। হাতে লাঠি, পরনে সাদামাটা কাপড় আর মুখেচোখে তার ক্লান্তির ছাপ যেন ভারতের বর্তমান অবস্থার দরুন তিনি ভীষন চিন্তিত। তার পিছনেই আছেন রামকৃষ্ণদেব সারদামা, পাশে নিবেদিতা ও মাদার টেরেজা এবং সামনে বিবেকানন্দ। হঠাৎ মনে হল ভারতের সেই স্বর্ণযুগ যেন আবার ফিরে এসেছে।এক মিনিটের জন্য ভুলেই গেছিলাম যে এনারা সত্যি নেই। তাদের বলতে ইচ্ছা করছিল যে এইসময়ে সমাজের রক্ষার্তে তাদের যে বড় দরকার। এই বৈষম্যতার ভিড়ে, মিথ্যা প্রতিশ্রুতির অন্তড়ালে আজও তাদের প্রিয় ভারতবাসিরা যে নিঃশ্বব্দে কেঁদে চলেছে। তাদেরকে বিদায় জানিয়ে পাশের ঘরে গিয়ে দেখলাম গুরুদেব একান্তে বসে কিছু পড়ছেন হয়ত। এটা ঠিক যেন জোড়াসাঁকোর একটি ঘর, দেওয়ালের গায়ে কাবার্ডে সযত্নে রাখা কিছু বই, চারিদিকে পুরোনো বনেদি বাড়ির ছাপ।সামনের বসার জায়গায় আছেন বিশ্বকবি,খুব মন দিয়ে কিছু পড়ছেন তাই ডিস্টার্ব করাটা উচিত হবে না। তবু তাঁর পাশে বসে জানাতে চাইলাম যে তার প্রেডিকশান কতটা ঠিক, সত্যিই তার মৃত্যুর এতবছর পরেও বাঙালী তাকে ভোলেনি, এখনো তাদের সমস্ত ইমোশানে (রাগ,দুঃখ,ভালোবাসায়, আনন্দে) রয়েছেন তিনি আর থাকবেনও। পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন কাজি নজরুল ইসলাম মুখে এক অম্লান হাসি নিয়ে যেন বলছেন এখনো তোরা ধর্ম নিয়ে চুলোচুলি করা থামালি না রে। বিদ্রোহি কবির এই আক্ষেপ যে বড় মর্মভেদি।
চলে এলাম পাশের ঘরে, এখানে রয়েছেন ভারতীয় রাজনীতির উজ্জ্বল কিছু নক্ষত্র। রয়েছেন দেশের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি এ পি জে আব্দুল কালাম ও প্রণব মুখার্জি তাদের মাঝেই দাঁড়িয়ে আছেন বি আর আম্বেদকার। সবার দৃষ্টি যেন একই দিকে, যেন খুঁজছেন তাদের ফেলে আসা ভারতবর্ষকে। তাদেরকে বিদায় জানিয়ে পাশের ঘরে আসতেই খুব অবাক হলাম। এ তো ঘর নয়, এখানে তো একটুকরো ল্যাবরেটরি গড়ে উঠেছে। বোর্ডে হিজিবিজি কিসব ফর্মূলায় ভর্তি আর তার সামনেই আছেন বিশ্বের শ্রেষ্ঠ বিজ্ঞানিরা। সেখানে যেমন স্থান পেয়েছেন বাংলার গর্ব আচার্য জগদীশচন্দ্র বসু আবার পাশেই আছেন সর্বকালের সেরা অ্যালবার্ট আইনস্টাইন। সবাই মিলে মনোযোগ দিয়ে কিছু সমস্যা সমাধানে ব্যাস্ত যেন। হয়ত বর্তমানের কিছু জটিল সমস্যা তাদের এখনো ভাবিয়ে তোলে। তাই আর ডিস্টার্ব না করে চলে এলাম পাশের ঘরে, এখানে দাঁড়িয়ে রয়েছেন ভারতীয় ক্রিকেটের দুনিয়ার উজ্জ্বল কিছু নক্ষত্ররা। রয়েছেন কপিল দেব,সচিন তেন্ডুলকার,সৌরভ গাঙ্গুলি এবং বর্তমান অধিনায়ক বিরাট কোহলি। এত আনন্দ তাদের চোখে মুখে যে মনে হচ্ছে এক্ষুনি কোনো ম্যাচ জিতেছেন সবাই মিলে। আর এই ক্রিকেট গ্রাউন্ডের পাশেই রয়েছে ফুটবল গ্রাউন্ড। সেখানে একসাথে ফুটবল খেলতে ব্যাস্ত মেসি ও মারাদোনা।
এরকম সময়ে পাশের ঘর থেকে এক মধুর সুর ভেসে এলো। গিয়ে তো আমার চক্ষু চড়কগাছ, এটা কি আমি ঠিক দেখছি!! আমার সামনে তখন ভারতবর্ষের সঙ্গীত জগতের বিশিষ্টজনেরা এবং সকলেই আমার অনুপ্রেরনা। হারমোনিয়ামের সাথে গান গাইছেন মান্না দে, পাশে রয়েছেন হেমন্ত মুখোপাধ্যায়। হয়ত কোনো নতুন গানের সুর বাঁধছেন দুজনে মিলে। আর পাশে মাইকের সামনে দাঁড়িয়ে কিশোর কুমার ও লতা মাঙ্গেশকর, যেন কোন ডুয়েট গানের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
পাশের ঘরে বিরাট এক স্টেজ, সেখানে পারফর্ম করছেন আমাদের সবার প্রিয় মিঠুন চক্রবর্তী। এখনো যেন তার স্টেপের ভঙ্গিতে প্রমান করতে চাইছেন হ্যাঁ তিনিই সর্বশ্রেষ্ঠ ডিসকো ডানসার। তার সামনেই দাঁড়িয়ে বিগ বি যেন মিঠুন কাকার ডান্স দেখে তিনিও মুগ্ধ। একটু তফাতে দাঁড়িয়ে বলিউডের দুই খান, শাহরুখ আর সালমান। একদিকে রোম্যানটিক ভঙ্গিতে কাছে আসতে বলছে শাহরুখ আর অন্যদিকে দাবাং স্টাইলে দর্শকদের ইমপ্রেস করছে সালমান, কাকে ছেড়ে কাকে দেখবো বড়ই মুশকিলে পড়লাম। তাই তাদের বিদায় জানিয়ে পাশের ঘরে আসতেই দেখলাম সামনে সত্যজিত রায় তার প্রিয় ফেলুদার সাথে দাঁড়িয়ে। আর পাশেই আছেন প্রফেশর শঙ্কু তার বানানো একটি রোবোট নিয়ে। হয়ত সবাই মিলে করোনা মোকাবিলার জন্য জোরকদমে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
এবার সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামতে হল,আর সিঁড়ির পাশেই অপেক্ষা করছিলেন টম ক্রুজ। যেন বলছেন এত দেরী করলে কেন গো আসতে সেই কখন থেকে দাঁড়িয়ে আছি। সামনের স্টেজে তখন মাইকেল জ্যাকসন তার বিভিন্ন ডান্স মুভ দেখাতে ব্যাস্ত। সবাই যে তার এই মুভ যথেস্ট মিস করছে সেটা ভালোই বুঝেছেন তিনি। সামনে এক বিরাট আয়না আর তার দুদিকে রয়েছেন অ্যাঞ্জেলিনা জোলি আর
ব্রাড পিট, এখনো তাদের খুনসুটি যুদ্ধ চলছে বোধহয়। কিছুটা দুরে একটি জাহাজ আসছে ঠিক যেন সেই পাইরেটস দের জাহাজ। ভিতরে লক্ষ্য করলাম অনেক মনিমুক্ত ভর্তি ড্রাম রাখা আর তার সামনেই এক কিলার হাসি দিয়ে দাঁড়িয়ে পাইরেটসদের সর্দার জনি ডিপ্স। ভয়ে পেয়ে দৌড়ে গেলাম একজনের কাছে, তিনি আবার তার মারশাল আর্টের স্টেপ দেখাতে ব্যাস্ত। অনেক কষ্টে চুলের ফাঁকফোকর দিয়ে মুখটি দেখে তো আমি থ মেরে গেলাম, এ তো সনামধন্য ব্রুস লি। তার থেকে কিছু স্টেপ রপ্ত করতে পারলে আমায় আর পায় কে, রাস্তায় পচা ছেলে ছোকরা পেলেই তাদের ধরে কেলিয়ে দেবো।
এরপরে সামনে পড়ল একটা ঘর,ভিতরটা পুরো অন্ধকার ঘুটঘুট করছে। ঢুকেই মনে হল আমার পাশে কেউ দাঁড়িয়ে, গা টা শিরশির করে উঠল। ঘার ঘোরাতেই দেখলাম সাদা কাপর পড়া এক মহিলা তার এলোচুল সামনে দিয়ে ঢাকা। ভয়ে দৌড়ে সরে গেলাম দুরে রাখা একটা খাটের কাছে। খাটে মনে হল আমি ছাড়াও কেউ আছে, পাশ ফিরতেই দেখি একটা ছোট বাচ্চা পা ছড়িয়ে বসে আছে। তার মুখটা দেখতে গিয়ে চমকে গেলাম, এ কি ওর যে মুন্ডুটা পুরো উল্টো!! খাট ছেড়ে দৌড়চ্ছি হঠাৎ পাশে একটা দোলনায় বসা এক নারী আমায় ডাকলো যেন। তাকে উপেক্ষা করে এগোচ্ছি পিছন থেকে একটা ইজিচেয়ারে বসে এক মা আর তার মেয়ে আমায় কাতর স্বরে ডাকছে। সিঁড়দারা দিয়ে এক ঠান্ডা শীতল জল নেমে এল। পিছন দিকে তাকিয়ে দৌড়তে দৌড়তে একটা জায়গায় হোঁচট খেয়ে পড়ে গেলাম। উঠতেই দেখলাম দুজন লোক আমার সামনেই বসে আছে, তাদের মাথা থেকে পা এক সাদা কাপরে ঢাকা। ঘোমটা তুলে তাদের মুখটা দেখার খুব ইচ্ছা হল। তুলতে গিয়েই বুঝলাম এ তো মানুষ নয়, এ যে পুরো কঙ্কাল। পাশে কিছু কফিন পড়ে আছে, তার ভিতর থেকে কে আবার ঠকঠক করছে আবার একটা কফিন থেকে তো কে বেড়িয়ে আসারো চেষ্টা করছে। কোনদিকে পালাবো কিচ্ছু বুঝে উঠতে পারছিনা এমন সময়ে চোখে পড়ল দূর থেকে আসা একটি আলোর রেখা। সেটা অনুসরন করে আসতে আসতে সেই মৃত্যুপুরী থেকে বেড়িয়ে এলাম।
বাইরে এসেই সামনে পেলাম শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় কে। বাড়ির দাওয়ায় দাঁড়িয়ে নতুন উপন্যাসটির প্লট বানাচ্ছিলেন বোধহয়। তার পাশেই একটি চেয়ারে বসে আছেন ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর। এই মানুষটার জন্য আজকের নারীরা সমাজে দাঁড়াতে শিখেছে ভেবেই তার পায়ের ধুলো নেওয়ার ইচ্ছে হল। পাশেই বসে পন্ডিত রবিশংকর একটা নতুন রাগ গেয়ে চলেছেন। আর তার পাশে দাঁড়িয়ে রাজা রামমোহন রায়, চারিদিকে যেন তার ঔজ্জ্বল্য ঠিকরে বেরোচ্ছে। তার মতোন মানুষ এই সমাজে বর্তমানে যে খুবই দরকার সেটা তাকে জানাতে খুব ইচ্ছা হল।
এরপর চলে এলাম এক সুড়ঙ্গপথ ধরে যেন এক অন্য দুনিয়ায়। এতক্ষনে আমি আমার প্রিয় জাদুর দেখা পেলাম। সেই যে সে স্পেসসিপ করে গেল আর এমুখো হয়নি তাই এতদিন পর দেখে খুব ভালো লাগল। তবে আগের মতো গলু গলু আর নেই সে, তাহলে কি ওদের গ্রহতেও সবাই ডায়েটিং শুরু করেছে আজকাল কি জানি!! উল্টোদিকেই পেলাম আভাতার সিনেমার নেয়তিরি কে। অতি সন্তর্পনে পা ফেলে সে কোথায় যাচ্ছে যেন আর পিছন পিছন আসছে তার বয়ফ্রেন্ড জেক। হেঃ হেঃ ওদের দুনিয়াতেও ছেলেরা মেয়েদের পিছন পিছনই ঘোরে তাহলে।
ওদিকে আবার কি গোল বেঁধেছে, ছুটে গিয়ে দেখি মোটু আর পাতলু ট্যাগ অফ ওয়ার খেলছে। মটু তো দিব্বি দাঁড়িয়ে মজা নিচ্ছে আর এদিকে বেচারা পাতলু হিমসিম খেয়ে যাচ্ছে আর বলছে বহুত নাইনসাফি হ্যায়। দূরে ছোটা ভিম তার বন্ধুদের সাথে দাঁড়িয়ে এই দৃশ্য দেখে হেসে লুটোপুটি খাচ্ছে। এমন সময় বাঁটুলদা তার বাচ্চু বিচ্চুর সাথে এদিকে এলেন আর এই ঘটনা দেখে তো বেজায় চোটে গেলেন মোটুটার ওপর। চোখ পাকিয়ে বললেন পাতলুর দিকের দড়িটা আমি একবার ধরব নাকি!! এই ঝামেলায় আর আমি না পড়ে এগিয়ে এলাম মিস্টার বিনের দিকে। আজকাল বোধহয় সেরকম কান্ডকারখানা হয়না ওনার তাই হয়ত ভুরিটা একটু বেড়ে গেছে। এদিকে স্পাইডারম্যান আর আয়রনম্যানের কি বন্ধুত্ব, পাশাপাশি দাঁড়িয়ে দিব্বি গল্প করে দিন কাটাচ্ছে।
ওনাদের সবাইকে বিদায় জানিয়ে একটা অন্ধকার ঘরে ঢুকলাম। নাঃ এখানে ভুত পেত্নীরা নেই, এখানে আছে ট্যাটু করার সহজ উপায়। যার যেই ট্যাটু পছন্দ বিনা খরচায় বিনা বেদনায় এখানে হয়ে যাবে।
অবশেষে আমার পুরো মিউজিয়াম ঘোরা শেষ হল। একদিনে এত নক্ষত্রদের দর্শন একসাথে পাবো তা কখনো স্বপ্নেও ভাবিনি তাই হ্যাংওভারটা কাটতে যথেস্ট সময় লাগল।
চলে এলাম পাশের ঘরে, এখানে রয়েছেন ভারতীয় রাজনীতির উজ্জ্বল কিছু নক্ষত্র। রয়েছেন দেশের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি এ পি জে আব্দুল কালাম ও প্রণব মুখার্জি তাদের মাঝেই দাঁড়িয়ে আছেন বি আর আম্বেদকার। সবার দৃষ্টি যেন একই দিকে, যেন খুঁজছেন তাদের ফেলে আসা ভারতবর্ষকে। তাদেরকে বিদায় জানিয়ে পাশের ঘরে আসতেই খুব অবাক হলাম। এ তো ঘর নয়, এখানে তো একটুকরো ল্যাবরেটরি গড়ে উঠেছে। বোর্ডে হিজিবিজি কিসব ফর্মূলায় ভর্তি আর তার সামনেই আছেন বিশ্বের শ্রেষ্ঠ বিজ্ঞানিরা। সেখানে যেমন স্থান পেয়েছেন বাংলার গর্ব আচার্য জগদীশচন্দ্র বসু আবার পাশেই আছেন সর্বকালের সেরা অ্যালবার্ট আইনস্টাইন। সবাই মিলে মনোযোগ দিয়ে কিছু সমস্যা সমাধানে ব্যাস্ত যেন। হয়ত বর্তমানের কিছু জটিল সমস্যা তাদের এখনো ভাবিয়ে তোলে। তাই আর ডিস্টার্ব না করে চলে এলাম পাশের ঘরে, এখানে দাঁড়িয়ে রয়েছেন ভারতীয় ক্রিকেটের দুনিয়ার উজ্জ্বল কিছু নক্ষত্ররা। রয়েছেন কপিল দেব,সচিন তেন্ডুলকার,সৌরভ গাঙ্গুলি এবং বর্তমান অধিনায়ক বিরাট কোহলি। এত আনন্দ তাদের চোখে মুখে যে মনে হচ্ছে এক্ষুনি কোনো ম্যাচ জিতেছেন সবাই মিলে। আর এই ক্রিকেট গ্রাউন্ডের পাশেই রয়েছে ফুটবল গ্রাউন্ড। সেখানে একসাথে ফুটবল খেলতে ব্যাস্ত মেসি ও মারাদোনা।
এরকম সময়ে পাশের ঘর থেকে এক মধুর সুর ভেসে এলো। গিয়ে তো আমার চক্ষু চড়কগাছ, এটা কি আমি ঠিক দেখছি!! আমার সামনে তখন ভারতবর্ষের সঙ্গীত জগতের বিশিষ্টজনেরা এবং সকলেই আমার অনুপ্রেরনা। হারমোনিয়ামের সাথে গান গাইছেন মান্না দে, পাশে রয়েছেন হেমন্ত মুখোপাধ্যায়। হয়ত কোনো নতুন গানের সুর বাঁধছেন দুজনে মিলে। আর পাশে মাইকের সামনে দাঁড়িয়ে কিশোর কুমার ও লতা মাঙ্গেশকর, যেন কোন ডুয়েট গানের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
পাশের ঘরে বিরাট এক স্টেজ, সেখানে পারফর্ম করছেন আমাদের সবার প্রিয় মিঠুন চক্রবর্তী। এখনো যেন তার স্টেপের ভঙ্গিতে প্রমান করতে চাইছেন হ্যাঁ তিনিই সর্বশ্রেষ্ঠ ডিসকো ডানসার। তার সামনেই দাঁড়িয়ে বিগ বি যেন মিঠুন কাকার ডান্স দেখে তিনিও মুগ্ধ। একটু তফাতে দাঁড়িয়ে বলিউডের দুই খান, শাহরুখ আর সালমান। একদিকে রোম্যানটিক ভঙ্গিতে কাছে আসতে বলছে শাহরুখ আর অন্যদিকে দাবাং স্টাইলে দর্শকদের ইমপ্রেস করছে সালমান, কাকে ছেড়ে কাকে দেখবো বড়ই মুশকিলে পড়লাম। তাই তাদের বিদায় জানিয়ে পাশের ঘরে আসতেই দেখলাম সামনে সত্যজিত রায় তার প্রিয় ফেলুদার সাথে দাঁড়িয়ে। আর পাশেই আছেন প্রফেশর শঙ্কু তার বানানো একটি রোবোট নিয়ে। হয়ত সবাই মিলে করোনা মোকাবিলার জন্য জোরকদমে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
এবার সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামতে হল,আর সিঁড়ির পাশেই অপেক্ষা করছিলেন টম ক্রুজ। যেন বলছেন এত দেরী করলে কেন গো আসতে সেই কখন থেকে দাঁড়িয়ে আছি। সামনের স্টেজে তখন মাইকেল জ্যাকসন তার বিভিন্ন ডান্স মুভ দেখাতে ব্যাস্ত। সবাই যে তার এই মুভ যথেস্ট মিস করছে সেটা ভালোই বুঝেছেন তিনি। সামনে এক বিরাট আয়না আর তার দুদিকে রয়েছেন অ্যাঞ্জেলিনা জোলি আর
ব্রাড পিট, এখনো তাদের খুনসুটি যুদ্ধ চলছে বোধহয়। কিছুটা দুরে একটি জাহাজ আসছে ঠিক যেন সেই পাইরেটস দের জাহাজ। ভিতরে লক্ষ্য করলাম অনেক মনিমুক্ত ভর্তি ড্রাম রাখা আর তার সামনেই এক কিলার হাসি দিয়ে দাঁড়িয়ে পাইরেটসদের সর্দার জনি ডিপ্স। ভয়ে পেয়ে দৌড়ে গেলাম একজনের কাছে, তিনি আবার তার মারশাল আর্টের স্টেপ দেখাতে ব্যাস্ত। অনেক কষ্টে চুলের ফাঁকফোকর দিয়ে মুখটি দেখে তো আমি থ মেরে গেলাম, এ তো সনামধন্য ব্রুস লি। তার থেকে কিছু স্টেপ রপ্ত করতে পারলে আমায় আর পায় কে, রাস্তায় পচা ছেলে ছোকরা পেলেই তাদের ধরে কেলিয়ে দেবো।
এরপরে সামনে পড়ল একটা ঘর,ভিতরটা পুরো অন্ধকার ঘুটঘুট করছে। ঢুকেই মনে হল আমার পাশে কেউ দাঁড়িয়ে, গা টা শিরশির করে উঠল। ঘার ঘোরাতেই দেখলাম সাদা কাপর পড়া এক মহিলা তার এলোচুল সামনে দিয়ে ঢাকা। ভয়ে দৌড়ে সরে গেলাম দুরে রাখা একটা খাটের কাছে। খাটে মনে হল আমি ছাড়াও কেউ আছে, পাশ ফিরতেই দেখি একটা ছোট বাচ্চা পা ছড়িয়ে বসে আছে। তার মুখটা দেখতে গিয়ে চমকে গেলাম, এ কি ওর যে মুন্ডুটা পুরো উল্টো!! খাট ছেড়ে দৌড়চ্ছি হঠাৎ পাশে একটা দোলনায় বসা এক নারী আমায় ডাকলো যেন। তাকে উপেক্ষা করে এগোচ্ছি পিছন থেকে একটা ইজিচেয়ারে বসে এক মা আর তার মেয়ে আমায় কাতর স্বরে ডাকছে। সিঁড়দারা দিয়ে এক ঠান্ডা শীতল জল নেমে এল। পিছন দিকে তাকিয়ে দৌড়তে দৌড়তে একটা জায়গায় হোঁচট খেয়ে পড়ে গেলাম। উঠতেই দেখলাম দুজন লোক আমার সামনেই বসে আছে, তাদের মাথা থেকে পা এক সাদা কাপরে ঢাকা। ঘোমটা তুলে তাদের মুখটা দেখার খুব ইচ্ছা হল। তুলতে গিয়েই বুঝলাম এ তো মানুষ নয়, এ যে পুরো কঙ্কাল। পাশে কিছু কফিন পড়ে আছে, তার ভিতর থেকে কে আবার ঠকঠক করছে আবার একটা কফিন থেকে তো কে বেড়িয়ে আসারো চেষ্টা করছে। কোনদিকে পালাবো কিচ্ছু বুঝে উঠতে পারছিনা এমন সময়ে চোখে পড়ল দূর থেকে আসা একটি আলোর রেখা। সেটা অনুসরন করে আসতে আসতে সেই মৃত্যুপুরী থেকে বেড়িয়ে এলাম।
বাইরে এসেই সামনে পেলাম শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় কে। বাড়ির দাওয়ায় দাঁড়িয়ে নতুন উপন্যাসটির প্লট বানাচ্ছিলেন বোধহয়। তার পাশেই একটি চেয়ারে বসে আছেন ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর। এই মানুষটার জন্য আজকের নারীরা সমাজে দাঁড়াতে শিখেছে ভেবেই তার পায়ের ধুলো নেওয়ার ইচ্ছে হল। পাশেই বসে পন্ডিত রবিশংকর একটা নতুন রাগ গেয়ে চলেছেন। আর তার পাশে দাঁড়িয়ে রাজা রামমোহন রায়, চারিদিকে যেন তার ঔজ্জ্বল্য ঠিকরে বেরোচ্ছে। তার মতোন মানুষ এই সমাজে বর্তমানে যে খুবই দরকার সেটা তাকে জানাতে খুব ইচ্ছা হল।
এরপর চলে এলাম এক সুড়ঙ্গপথ ধরে যেন এক অন্য দুনিয়ায়। এতক্ষনে আমি আমার প্রিয় জাদুর দেখা পেলাম। সেই যে সে স্পেসসিপ করে গেল আর এমুখো হয়নি তাই এতদিন পর দেখে খুব ভালো লাগল। তবে আগের মতো গলু গলু আর নেই সে, তাহলে কি ওদের গ্রহতেও সবাই ডায়েটিং শুরু করেছে আজকাল কি জানি!! উল্টোদিকেই পেলাম আভাতার সিনেমার নেয়তিরি কে। অতি সন্তর্পনে পা ফেলে সে কোথায় যাচ্ছে যেন আর পিছন পিছন আসছে তার বয়ফ্রেন্ড জেক। হেঃ হেঃ ওদের দুনিয়াতেও ছেলেরা মেয়েদের পিছন পিছনই ঘোরে তাহলে।
ওদিকে আবার কি গোল বেঁধেছে, ছুটে গিয়ে দেখি মোটু আর পাতলু ট্যাগ অফ ওয়ার খেলছে। মটু তো দিব্বি দাঁড়িয়ে মজা নিচ্ছে আর এদিকে বেচারা পাতলু হিমসিম খেয়ে যাচ্ছে আর বলছে বহুত নাইনসাফি হ্যায়। দূরে ছোটা ভিম তার বন্ধুদের সাথে দাঁড়িয়ে এই দৃশ্য দেখে হেসে লুটোপুটি খাচ্ছে। এমন সময় বাঁটুলদা তার বাচ্চু বিচ্চুর সাথে এদিকে এলেন আর এই ঘটনা দেখে তো বেজায় চোটে গেলেন মোটুটার ওপর। চোখ পাকিয়ে বললেন পাতলুর দিকের দড়িটা আমি একবার ধরব নাকি!! এই ঝামেলায় আর আমি না পড়ে এগিয়ে এলাম মিস্টার বিনের দিকে। আজকাল বোধহয় সেরকম কান্ডকারখানা হয়না ওনার তাই হয়ত ভুরিটা একটু বেড়ে গেছে। এদিকে স্পাইডারম্যান আর আয়রনম্যানের কি বন্ধুত্ব, পাশাপাশি দাঁড়িয়ে দিব্বি গল্প করে দিন কাটাচ্ছে।
ওনাদের সবাইকে বিদায় জানিয়ে একটা অন্ধকার ঘরে ঢুকলাম। নাঃ এখানে ভুত পেত্নীরা নেই, এখানে আছে ট্যাটু করার সহজ উপায়। যার যেই ট্যাটু পছন্দ বিনা খরচায় বিনা বেদনায় এখানে হয়ে যাবে।
অবশেষে আমার পুরো মিউজিয়াম ঘোরা শেষ হল। একদিনে এত নক্ষত্রদের দর্শন একসাথে পাবো তা কখনো স্বপ্নেও ভাবিনি তাই হ্যাংওভারটা কাটতে যথেস্ট সময় লাগল।
সেদিনের পুরো মিউজিয়ামের ট্যুরের একটি ভিডিও লিঙ্ক নীচে দিলাম। সবাই দেখে লাইক আর চ্যানেলটা সাবস্ক্রাইব করে দিলে খুব খুশি হব।
https://youtu.be/9WzpuB_STm8
https://youtu.be/9WzpuB_STm8
ধন্যবাদ 🙏 ভুলত্রুটি মার্জনীয়।






























Comments
Post a Comment