"Arunachal Pradesh" - The Land Of Rising Sun (Ep-2)

অরুনাচল প্রদেশ - উদীয়মান সূর্যের দেশ









প্রথম পর্বের youtube video link : https://youtu.be/vI5yIxkgxvQ
দ্বিতীয় পর্বের youtube video link : https://youtu.be/aEq07n6t3jo
দূর্গাসপ্তমীর দিন সকাল 8টার মধ্যে আমরা সকলে তৈরী হয়ে আসামের তেজপুরকে বিদায় জানিয়ে চললাম অরুণাচলের পথে। কলকাতা থেকেই ঠিক করা হয়েছিল গাড়ি, সেইমত আমাদের ড্রাইভার সেরিংজি সকাল সকাল তার সুমো নিয়ে হাজির আমাদের হোটেলের সামনে। ভোরবেলা তেজপুরের পরিষ্কার আকাশ, মোনোরম আবহাওয়া আমাদের মনকে আনন্দে ভরিয়ে দিল।
শুরু হল পথচলা, প্রথমে পৌঁছলাম ভালুকপং যেটা কিনা অরুণাচলে ঢোকার প্রবেশদ্বার। সত্যিই কিন্তু একটা দ্বার, যার একদিকে আসামের সিমানা শেষ হচ্ছে আর অপরদিকে আরুণাচল শুরু হচ্ছে। দ্বারটি দেখতেও খুব অন্যরকম, মাথায় যেন মহিষাসুরের দুটো বড় বড় কালো শিং পড়ানো। সেখানে police র কাছে আমাদের অরুণাচলে ঢোকার ছারপত্রটি (Inner line permit) দেখাতে হল। তাদের অনুমতি গ্রহণ করে আমরা অরুণাচলে ঢুকতে পারলাম। এই ভালুকপং এ প্রচুর বাঙালি খাবারের দোকান রাস্তায় ছরিয়ে ছিটিয়ে আছে। তাই এরকম একটা দোকানেই সেরে ফেললাম আমাদের breakfast পর্বটি। এরপর আবার গাড়ি চলতে শুরু করল। রাস্তা খুবই সুন্দর, চারপাশের দৃশ্য আরও সুন্দর। আস্তে আস্তে সমতল ছেড়ে এবার আমরা পাহাড়ি পথে উঠতে লাগলাম।
10-15 মিনিটের মাথায় আমাদের গাড়ি পৌঁছে গেল অর্কিড রিসার্চ সেন্টারের অন্দরে। চারপাশে সুন্দর গাছগাছালি দিয়ে পরিবেষ্টিত এই রিসার্চ সেন্টারটি। মাত্র 10 টাকা দিয়ে টিকিট কেটে আমরা ভিতরে প্রবেশ করলাম। শুনলাম এখানে প্রায় 10,000 অর্কিড species সংরক্ষন করে রাখা আছে যাদের মধ্যে কিছু বিলুপ্তপ্রায় species ও আছে। বিশাল এলাকা জুড়ে এই রিসার্চ সেন্টারটি। গাছপালা সম্বন্ধে idea না থাকলেও নিরিবিলি কিছু সময় কাটানোর জন্যও এখানে আসা যেতেই পারে।
আবার গাড়ি চলতে শুরু করল। পথের বাঁকে বাঁকে কখনো কখনো উঁকি মারছে আসামের জিয়াভরেলি বা অরুণাচলের কামেং নদী (একই নদীর দুটি রাজ্যে দুটি নাম)। পথের দুপাশে সবুজের ঘনঘটা, ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা শরতের কাশফুলের সমারোহ, আর পাশে কলকল শব্দে বয়ে চলেছে এই নদীটি, সবমিলিয়ে প্রকৃতি যেন উজার করে ঢেলেছে তার সবটুকু।
চারপাশ দেখতে দেখতে যাচ্ছি এরকম সময়ে হঠাং বুকে প্রচন্ড ধাক্কা লাগল, যেন হৃংপিন্ড বেড়িয়ে একেবারে ভূমিপৃষ্ঠ করে ফেলল। কথায় কথায় আমাদের ড্রাইভারজির কাছে জানতে চেয়েছিলাম অরুণাচলে জিওর নেটওয়ার্ক কেমন থাকে সেইব্যাপারে। ওনার উত্তরে যা বুঝলাম বেড়ানোর বাকি দিনগুলি আমাদের মতো একনিষ্ঠ জিওর খদ্দেরদের জন্য বনবাসে পরিণত হতে চলেছে কারণ পুরো অরুণাচলে কোথাও জিওর নেটওয়ার্ক নেই। bsnl, airtel,vodafone এনারা নিজেদের ঘাঁটি গাড়লেও এখনও আম্বানি জেঠুরা তাদের tower বসিয়ে উঠতে পারেননি। তবে খুব শিগ্গিরি নাকি তারা বসাতে চলেছেন। তাতে আর আমাদের কি লাভ! মনে মনে social networking site গুলিকে কিছুদিনের জন্য বিদায় জানিয়ে চারপাশের দৃশ্য দেখে দুঃখ ভোলানোর চেষ্টা করতে লাগলাম।
প্রায় ঘন্টা তিন চারেক চলার পর পাহাড়ের এক মোর ঘোরার আগে দাঁড়িয়ে গেল গাড়িটি। সামনে দেখলাম একটা মোটা দড়ি দিয়ে রাস্তা আটকানো। পাশে একটা ছাউনি দেওয়া ঘর সেখানে দাঁড়িয়ে এক পুলিশকাকু। তার কছে জানলাম সামনে রাস্তা তৈরীর কাজ চলছে, ডিনামাইট দিয়ে পাহাড় ফাটানো হচ্ছে। তাই আগে যেতে দেওয়া যাবে না। পাশে লাগানো এক বোর্ডে এদের কাজের সময়সূচির বর্ণণা দেখে যা বুঝলাম তাতে সামনের দুটি ঘন্টা আমাদের সেই স্থানেই অতিবাহিত করতে হবে, এছাড়া আর কোনো উপায় নেই। অগত্যা আমরা গাড়ি থেকে নেমে এদিক ওদিক কাছাকাছির মধ্যে ঘুরতে লাগলাম। সামনেই একটি ব্রিজ ছিল, তার নীচে বয়ে চলেছে নাম না জানা কোনো পাহাড়ি নদী। সেখানে কিছু ফোটো তুলে সামনের একটি বাড়িতে গেলাম। বাড়ি মানে এখানে চারটে দেওয়াল আর তার ওপরে এক শান্তির ছাউনি। সামনে কিছু নিত্যনৈমিত্তিক জিনিসপত্রের সামগ্রী। তাদের উঠানে কিছুক্ষন বসে ছোট ছোট পাপ্পিদের সাথে, চারপাশে উড়তে থাকা কিছু প্রজাপতির সাথে খেলা করে কিছুটা সময় অতিবাহিত হল। হঠাং গাড়ির হর্ণ শুনে বেড়িয়ে দেখি আমাদের গাড়ি সহ বাকি সদস্যরা তখন আমার জন্যই অপেক্ষায় আছে। দুইঘন্টা হওয়ার আগেই এই হাঁকডাক দেখে খুবই আশ্চর্য হলাম। আমার এই জিজ্ঞাসু মুখ দেখে তারা বললেন যে আমরা নাকি এখন অন্য রাস্তা ধরতে চলব। আমরা যে স্থানে আটকে ছিলাম তার পাশ দিয়ে একটি কাঁচা রাস্তা যাচ্ছে সেটা আগেই দেখেছিলাম এখন শুনছি সেই রাস্তাই নাকি এবার আমাদের একমাত্র সম্বল আর নইলে করতে হবে অনেকক্ষনের অপেক্ষা। আর কি! এবার এই কাঁচা, অর্ধভঙ্গুর খানাখন্দময় রাস্তাকেই সঙ্গী করে চলতে লাগলাম। গাড়ির নাচনের সাথে সাথে আমাদের কোমড়গুলিও রবারের বলের মতো লাফাতে লাগল।
এই রাস্তাটি হল অনেকটা ঘুরিয়ে নাক দেখানোর মতো। সোজা পথে গেলে পৌঁছতে যা সময় লাগা উচিত, ঘুরে যাওয়ার দরুণ সেটি আরো তিন চার ঘন্টা বেড়ে দাঁড়ালো। তারপর আবার গোদের ওপর বিষফোঁড়ার মতো এই ভাঙাচোড়া রাস্তা। এইসব দেখে মনে হচ্ছিল ওখানে দুঘন্টা কাটিয়ে গেলেই ভালো হত। যাইহোক আর কি করা যায়, সেই রাস্তা ধরেই আমরা চলতে লাগলাম। আস্তে আস্তে গভীর বনের মধ্যে দিয়ে গাড়ি চলতে লাগল। চলতে চলতে শুনতে পেলাম কোথাও থেকে অনেক ঘন্টার ধ্বনি আসছে। আসপাশে জঙ্গলের মধ্যে মন্দির? তাও আবার এই বৌদ্ধদের এলাকায় হিন্দু মন্দির? এইসবই ভাবছি তখন এক জেঠুর কাছ থেকে জানতে পারলাম যে এটা কোনো মন্দিরের ঘন্টা নয়, কোনো এক পোকার আওয়াজ, আবিকল ঘন্টার ধ্বনির মতো। সত্যিই এই জঙ্গলের রাস্তায় না এলে তো এই অভিজ্ঞতা হতোই না আমাদের।
আস্তে আস্তে দুপুর গড়িয়ে বিকেল আর তারপর সন্ধে হল। গাড়ি চলছে তো চলছেই। কখনও চারিদিক রোদে ফেটে পড়ছে, আবার কখনও মেঘলা আকাশ কুয়াশাচ্ছন্ন হয়ে যাচ্ছে যে সামনের রাস্তা টুকু পর্যন্ত দেখতে অসুবিধা হচ্ছে, আবার কোথাও বৃষ্টিও পড়ছে। এখানকার ড্রাইভাররা সত্যিই খুবই দক্ষ যে পথ আমি দেখতে পর্যন্ত পাচ্ছি না তারা সে পথে গাড়ি চালিয়ে যাচ্ছে। পথে পড়ল বম্বডিলা শহড়টা, এখানে আমরা ফেরার পথে stay করব। আরো কিছু ঘন্টা চলতে চলতে এল দিরাং শহড়টি। তখন চরিদিকে ঘুটঘুটে অন্ধকার, আকাশের চাঁদই তখন একমাত্র পথপ্রদর্শক। অবশেষে আমরা আমাদের হোমস্টেতে এসে পৌঁছলাম প্রায় ১২ ঘণ্টা journey করে। চারমাস আগেই বুক করা হয়েছিল এই গণপালোক হোমস্টেটি। বাড়িটি দেখতে খুবই সুন্দর, চারপাশে ফুল গাছগাছালিতে ভর্তি। ঘরগুলিও বেশ বড়, সাথে রয়েছে drawing + dining room। শুধু হোমস্টেটি দিরাঙের লোকালয়ে থেকে অনেকটাই ভিতরের দিকে, যেহেতু আমাদের শান্ত, নিরিবিলি জায়গাই বেশি পছন্দের তাই এটা আমাদের জন্য একদম ঠিকঠাক ছিল। এখানে হোটেল বা হোমস্টে তে entry করতে identity proof র সাথে লাগবে inner line permit টি।
এরপর ক্লান্ত পরিশ্রান্ত আমরা সকলে ওখানেই রাতের খাবার খেয়ে ঘুমের কোলে ঢুলে পরলাম।
আজকের মতো বেড়ানোর গল্প এই পর্যন্তই।আগামি পর্বে আমরা দিরাং ভ্যালির অপরূপ সৌন্দর্য দেখতে যাব। সঙ্গে থাকুন। ধন্যবাদ 🙏 ভুলত্রুটি মার্জনীয়।
আমাদের বেরানোর video রূপান্তরণ দেখতে চাইলে click করুন নিচের linkএ।
প্রথম পর্বের youtube video link : https://youtu.be/vI5yIxkgxvQ
দ্বিতীয় পর্বের youtube video link : https://youtu.be/aEq07n6t3jo
Contact details :
Tezpur Hotel N.C : 09127072470
Dirang Gonpalok Homestay : 09774531176
Our Driver Sering : +91 89740 11678

Comments